জার্মানির বিশ্বকাপ মিশন: ভেরনারের ছিটকে পড়ার বিষাদ আর তরুণ কার্লের রঙিন স্বপ্ন

খেলা

জার্মানির ফুটবল অঙ্গনে এখন মিশ্র আবেগের সুর। একদিকে যেমন দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার টিমো ভেরনারের চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার বিষাদ, অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখের ১৭ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লেনার্ট কার্লের চোখে বিশ্বমঞ্চে খেলার রঙিন স্বপ্ন। সব মিলিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্মান দলে বড়সড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ভেরনারের চোটে বড় ধাক্কা

জার্মানি দলের জন্য খবরটা নিঃসন্দেহে বড় এক ধাক্কা। লাইপজিগের তারকা ফরোয়ার্ড টিমো ভেরনার গোড়ালির গাঁটের চোটের কারণে চলতি বছরে আর মাঠে নামতে পারবেন না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে লাইপজিগের ৪-০ গোলে জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি, কিন্তু চোট পেয়ে বিরতির পরই তাকে উঠে যেতে হয়। ক্লাবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলারের পক্ষে আসন্ন বিশ্বকাপের আগে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

অভিজ্ঞতার অভাব ও ফ্লিকের দুশ্চিন্তা

ভেরনারের অনুপস্থিতি কোচ হান্সি ফ্লিকের সাজানো পরিকল্পনায় বড় আঘাত হানতে পারে। ২০১৭ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে ৫৫ ম্যাচে ২৪ গোল করা এই স্ট্রাইকার ছিলেন দলের নিয়মিত মুখ। রাশিয়া বিশ্বকাপ ও ইউরো ২০২০-এর মতো বড় আসরে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা ভেরনার নেশন্স লিগের গত ম্যাচগুলোতেও ছিলেন ফ্লিকের আস্থার প্রতীক। তার অভাব পূরণ করা জার্মানির আক্রমণভাগের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

বায়ার্ন শিবিরে নতুন নক্ষত্রের উদয়

একদিকে যখন ভেরনারের বিদায়ে হতাশা, ঠিক তখনই বায়ার্ন মিউনিখের আঙিনায় জ্বলে উঠছেন তরুণ লেনার্ট কার্ল। মাত্র ১৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল একাদশে জায়গা করে নেওয়া—তার এই উল্কাগতি উত্থান জার্মান ফুটবলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। যদিও জাতীয় দলের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে তার অভিষেক হয়নি, তবুও তার লক্ষ্য এখন অনেক উঁচুতে।

নাগলসম্যানের দলে জায়গার খোঁজে

তরুণ এই মিডফিল্ডার সরাসরি তাকিয়ে আছেন জুলিয়ান নাগলসম্যানের আসন্ন বিশ্বকাপ স্কোয়াডের দিকে। সম্প্রতি এক ফ্যান ইভেন্টে নিজের স্বপ্নের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন কার্ল। তিনি বলেন, “অবশ্যই আমি বিশ্বকাপে যেতে চাই। আমাকে কেবল ভালো পারফর্ম করে যেতে হবে, শেষ পর্যন্ত কী হয় সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলতে পারাটা হবে বিশেষ কিছু। আমি কঠোর পরিশ্রম করছি এবং আশা করি এর প্রতিদান পাব।” বায়ার্ন এবং জার্মানি—উভয়ের জন্যই কার্ল এক বড় সম্পদ হয়ে উঠছেন। ভেরনারের মতো তারকার শূন্যতা হয়তো কার্লের মতো তরুণ প্রতিভাদের দিয়েই পূরণ করার পথে হাঁটতে পারে জার্মানি।