দুই দেশের রুপালি পর্দা: ‘স্বপ্নজাল’ নিয়ে উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ বিতর্কে অনীহা

বিনোদন

সেন্সর বোর্ডে প্রশংসিত ‘স্বপ্নজাল’ গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমাটি বিনা কর্তনে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। শুধু ছাড়পত্রই নয়, সিনেমাটি দেখে রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছেন সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা। বিশেষ করে প্রধান চরিত্র পরী মণির অভিনয় তাদের দারুণভাবে বিস্মিত করেছে। সেন্সর বোর্ডের সদস্য ও প্রযোজক নাসির উদ্দিন দিলু জানিয়েছেন, পরী মণি যে এত অসাধারণ মাপের একজন অভিনয়শিল্পী, তা তাদের ধারণাতেই ছিল না। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এ ধরনের চমৎকার ও গল্পনির্ভর সিনেমা দর্শকদের আবারও সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।

পরিচালক সমিতির সভাপতি ও সেন্সর বোর্ডের আরেক সদস্য মুশফিকুর রহমান গুলজারও সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। যৌথ প্রযোজনার প্রিভিউ কমিটিতে প্রথমবার সিনেমাটি দেখেই তিনি এর মেকিং, লোকেশন এবং শিল্পীদের সময়োপযোগী অভিনয়ে মুগ্ধ হন।

সিনেমাটি নিয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত পরী মণি নিজেও। মুক্তির জন্য অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন এই অভিনেত্রী। খুব শিগগিরই দর্শকদের সামনে সিনেমাটি নিয়ে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি জানান, দর্শকরা ‘স্বপ্নজাল’ দারুণভাবে পছন্দ করবেন বলে তার বিশ্বাস। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে শুরু হওয়া এই সিনেমায় পরী মণির বিপরীতে আছেন ইয়াশ রোহান। গিয়াস উদ্দিস সেলিমের পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও কাহিনীতে এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, ফজলুর রহমান বাবু, শহিদুল আলম সাচ্চু, ইরেশ যাকেরসহ একঝাঁক গুণী অভিনয়শিল্পী। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের কলকাতায় এর দৃশ্যধারণ করা হয়েছে।

ভিন্ন চিত্র প্রতিবেশী দেশে: বিতর্কের কেন্দ্রে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ বাংলাদেশ যখন একটি সুন্দর সিনেমার মুক্তির অপেক্ষায়, প্রতিবেশী দেশ ভারতে তখন সিনেমা নিয়ে চলছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আসন্ন বলিউড সিনেমা ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড’। সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে এই চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে একেবারেই নারাজ কেরালার বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর।

সোমবার কোচিতে এনডিএ-এর জোনাল অফিস উদ্বোধনের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিতর্কিত এই সিনেমাটি দেখার কোনো পরিকল্পনাই তার নেই। সংবিধানে উল্লেখিত বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই বিজেপি নেতা জানান, সিনেমা তৈরি করার অধিকার সবারই রয়েছে। তবে কোনো সিনেমায় যদি বেআইনি কিছু থাকে, সেটি বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে মোহনলাল অভিনীত ‘এমপুরান’ সিনেমাটি নিয়ে যখন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তখনও একই অবস্থানে ছিলেন রাজীব চন্দ্রশেখর। গোধরা দাঙ্গার দৃশ্যপটকে কেন্দ্র করে ডানপন্থীদের সমালোচনার মুখে সেবার সিনেমাটিকে পুনরায় সেন্সরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’-এর ট্রেলার নিয়ে তার ব্যক্তিগত কোনো আপত্তি আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বারবারই এড়িয়ে যান। শুধু জোর দিয়ে বলেন যে তিনি সিনেমাটি দেখছেন না। তবে আলোচনার এক পর্যায়ে কিছুটা হালকা মেজাজে তিনি জানান, স্পাই থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ তার এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে তিনি সেটি দুবার দেখেছেন। মজার বিষয় হলো, ওই ব্লকবাস্টার সিনেমাটির বিরুদ্ধেও বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ উঠেছিল।