মিলানো কর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক গেমসের আবহে ক্রীড়াঙ্গন যখন উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স নিয়ে এলো তাদের নতুন চমক। অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক গেমসের দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক পার্টনার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি উন্মোচন করেছে ‘গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৭ অলিম্পিক এডিশন’। নব্বইটি দেশের প্রায় ৩,৮০০ অ্যাথলেটের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বিশেষভাবে তৈরি এই স্মার্টফোনটি। গেমস ভিলেজের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা থেকে শুরু করে প্রতিযোগিতার স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ধরে রাখা—পুরো সময়জুড়ে এই ডিভাইসটি অ্যাথলেটদের সঙ্গী হিসেবে থাকবে।
খেলার মাঠে ও বিজয়ের মুহূর্তে প্রযুক্তির ছোঁয়া
শীতকালীন অলিম্পিকে এবারই প্রথম ‘ভিক্টরি সেলফি’র প্রচলন হতে যাচ্ছে। এর ফলে বিজয় মঞ্চে দাঁড়িয়েই পদকজয়ীরা নিজেদের জয়ের মুহূর্তটি সরাসরি ফ্রেমবন্দি করতে পারবেন। শুধু ব্যক্তিগত ইভেন্ট নয়, দলগত খেলাতেও এবার এই সুযোগ থাকছে। এর পাশাপাশি গ্যালাক্সি এস ২৫ আল্ট্রা দিয়ে তোলা ‘ভিক্টরি প্রোফাইল’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অ্যাথলেটরা নিজেদের আবেগ ও ব্যক্তিগত গল্প তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের মোবাইল এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের কর্মকর্তা স্টিফানি চই জানান, অ্যাথলেটরাই অলিম্পিকের প্রাণ। প্রায় তিন দশক ধরে স্যামসাং তাদের পাশে আছে। ২০১৪ সালের সোচি অলিম্পিক থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকতা মিলানো কর্টিনা ২০২৬-এ আরও জোরালো হচ্ছে, যাতে অ্যাথলেটরা তাদের ভক্ত ও পরিবারের সাথে অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলো নিজেদের মতো করে শেয়ার করতে পারেন।
নকশায় আভিজাত্য ও ইতালীয় ঐতিহ্যের মিশেল
বিশেষ এই সংস্করণটির নকশায় মিলানো কর্টিনা ২০২৬-এর থিম এবং ইতালির ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ফোনের পেছনের নীল রঙটি ইতালীয় সংস্কৃতি ও স্যামসাংয়ের নিজস্ব পরিচয়ের সংমিশ্রণ, যা একইসাথে অলিম্পিকের ঐক্য ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের প্রতীক। সোনালী মেটাল ফ্রেমটি অ্যাথলেটদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। ডিভাইসটির সাথে থাকছে একটি বিশেষ স্বচ্ছ ম্যাগনেটিক কেস, যেখানে সোনালী লরেল পাতার নকশা বিজয়ের বার্তা বহন করে। এমনকি ফোনের ওয়ালপেপারেও থাকছে শীতকালীন খেলাধুলার আমেজ, যা বরফের ওপর স্কেটিংয়ের বাঁকানো দাগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ডিজাইন করা হয়েছে।
দৈনন্দিন ব্যবহারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা
পকেটে সহজে এঁটে যাওয়া গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৭-এ ব্যবহার করা হয়েছে গ্যালাক্সি এআই এবং এজ-টু-এজ ফ্লেক্সউইন্ডো। এতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এবং ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্সের শক্তিশালী ক্যামেরা সেটআপ, যা ফ্ল্যাগশিপ মানের ছবি উপহার দেবে। অ্যাথলেটদের রুটিন ঠিক রাখতে ‘নাও ব্রিফ’ (Now Brief) ফিচারটি ক্যালেন্ডার ইভেন্ট, রিমাইন্ডার ও ফিটনেস সামারি জানাবে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিক করা বা অবাঞ্ছিত বস্তু সরানোর জন্য এতে যুক্ত করা হয়েছে স্টুডিও মানের ‘ফটো অ্যাসিস্ট’।
সবচেয়ে কার্যকরী ফিচারগুলোর একটি হলো ‘অন-ডিভাইস ইন্টারপ্রেটার’। এটি নেটওয়ার্ক সংযোগ ছাড়াই রিয়েল-টাইম অনুবাদ করতে পারে, যা পাহাড়ি এলাকায় বা ভিন্ন ভাষার মানুষের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দারুণ সহায়ক হবে। এছাড়া অ্যাথলেটরা ‘ডুয়েল রেকর্ডিং’ মোড ব্যবহার করে একই সাথে পেছনের ও সামনের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করতে পারবেন, ফলে নিজের প্রতিক্রিয়া ও সামনের দৃশ্য এক শটেই ধারণ করা সম্ভব হবে।
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত
অ্যাথলেটরা যেমন তাদের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো শেয়ার করবেন, তেমনি তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষাও সমান জরুরি। আমাদের স্মার্টফোন এখন সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গা, কিন্তু আমরা প্রায়ই তা ব্যবহার করি জনাকীর্ণ স্থানে—বাসে, লিফটে বা লাইনে দাঁড়িয়ে। এ সময় ‘শোল্ডার সার্ফিং’ বা পাশ থেকে অন্যের ফোনে উঁকি দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে স্যামসাং শীঘ্রই ফোনে একটি নতুন প্রাইভেসি লেয়ার বা নিরাপত্তা ফিচার যুক্ত করতে যাচ্ছে।
সুরক্ষা এখন ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণে
নতুন এই প্রযুক্তির ফলে গণপরিবহনে মেসেজ চেক করা বা পাসওয়ার্ড টাইপ করার সময় পাশ থেকে কেউ দেখে ফেলার ভয় থাকবে না। সবার গোপনীয়তার প্রয়োজন এক নয়, তাই স্যামসাং ব্যবহারকারীদের হাতেই নিয়ন্ত্রণের চাবি তুলে দিচ্ছে। নির্দিষ্ট অ্যাপ বা নোটিফিকেশনের জন্য ব্যবহারকারী নিজেই ঠিক করতে পারবেন কতটা আড়াল বা প্রাইভেসি প্রয়োজন। এটি কোনো ঢালাও ব্যবস্থা নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজ করার সুযোগ থাকছে।
প্রায় পাঁচ বছরের গবেষণা ও প্রকৌশলবিদ্যার ফল এই প্রযুক্তি। মানুষ কীভাবে ফোন ব্যবহার করে এবং কোন বিষয়গুলোকে গোপন রাখতে চায়—তা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার পরই হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের এই সমন্বয় করা হয়েছে। স্যামসাং নক্স (Samsung Knox)-এর শক্তিশালী নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ফিচারটি পিক্সেল লেভেলে সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, যা ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক কাজের অভিজ্ঞতায় কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না।